বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পিটিয়ে হত্যা
জহির শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | ২৫ মার্চ ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দ্বীন ইসলাম (৩৫) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে কসবার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিহত দ্বীন ইসলাম শিমরাইল গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধভিত্তিক ভিডিও তৈরি করতেন এবং ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ছেলে এলাকায় মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। এসব বিষয় প্রকাশ করায় একটি প্রভাবশালী চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে অপরাধ উন্মোচন বা সমালোচনামূলক কনটেন্ট তৈরির কারণে বিরোধ ও হামলার ঘটনা বাড়ছে। দ্বীন ইসলামের হত্যাকাণ্ড সেই উদ্বেগকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়—এই হত্যার বিচার কত দ্রুত ও কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায়।

0 Comments